এই সরকারের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট নেতা মির্জা আব্বাস। সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, “এই সরকারের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই; তারা কেবল অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে দেশ চালাচ্ছে।” এই বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
মির্জা আব্বাসের মতে, বর্তমান সরকার প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন—সবখানেই নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন শক্তির ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, “জনগণের ভোটে নয়, প্রশাসনিক শক্তি আর বিদেশি প্রভাবের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই সরকার। তাই জনগণের প্রতি তাদের জবাবদিহিতা নেই।”
তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো বর্তমানে মারাত্মক সংকটে রয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বরাবরই দাবি করা হয় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে একতরফা ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। এই প্রেক্ষাপটেই মির্জা আব্বাসের এমন বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, যেখানে জনগণ নিজের ভোট দিতে পারবে। কিন্তু এই সরকারের অধীনে সেটি সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা আব্বাসের এই মন্তব্য কেবল একটি বক্তব্য নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের আগে বিএনপির কৌশলগত বার্তা। এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলটি জনগণকে জানাতে চায় যে, তারা এখনো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অটল।
তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, বিএনপি এখন শুধুমাত্র অভিযোগের রাজনীতিতে আটকে আছে এবং জনগণ তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে।
এদিকে সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করেন, মির্জা আব্বাস বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন, আবার অনেকে এটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে যেমন উত্তপ্ত, তাতে এই ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে যাবে, তা নির্ভর করবে আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ওপর।
সব মিলিয়ে মির্জা আব্বাসের এই মন্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে যে, দেশের রাজনীতি এখন এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। জনগণ অপেক্ষা করছে—আসন্ন নির্বাচন কি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ এনে দেবে, নাকি রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করবে?
আরও খবর পেতে এখানে ক্লিক করেন
